Banner Before Header

৯ বছর চাকরি নাই এমন শিক্ষকের জাতীয়করণ !

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : গাজীপুরের কালিয়াকৈরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কলেজে প্রায় ৯ বছর ধরে কর্মরত নাই এমন শিক্ষককে জাতীয়করণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গছে। যার মধ্যে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে কয়েকজন শিক্ষকের চাকরি চলে যায় ২০০৯ সালে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কলেজটি বর্তমান সরকার ২০১৬ সালে জাতীয়করণের ঘোষণা দিলে আনুষঙ্গিক কার্যক্রম প্রায় চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এরই মধ্যে কলেজে কর্মরত সব শিক্ষক কর্মচারীর নিয়োগ যোগদানের যাবতীয় কাগজপত্র চুড়ান্ত করে শিক্ষক কর্মচারীদের নামের তালিকা যাচাই বাছাই শেষে  ডিজি থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। আর তখনি বেরিয়ে আসে অনিয়মের বিষয়টি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিজির এক কর্মকর্তা নিউজনাউকে জানান, গাজীপুরের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কলেজটি জাতীয়করনে বড় ধরণের অনিয়ম হচ্ছে। প্রথম দিকে কলেজ থেকে পাঠানো কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীর নামের তালিকার সাথে কলেজে কর্মরত নাই এমন কয়েকজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যারা বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে চাকরিচ্যুত হয়েছেন। এর সাথে জড়িত রয়েছেন কলেজের শিক্ষক এবং ডিজির কর্মকর্তা।

অনুসন্ধানে  বেরিয়ে আসে  তালিকাতে রয়েছে সেই সব শিক্ষকের নাম যারা প্রায় নয় বছর ধরে কলেজে কর্মরত নাই। এর মধ্যে রয়েছে সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, নাজমা আক্তার (প্রভাষক দর্শন), কিশোর কুমার (ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং), হাসিনা আক্তার জাহান (বাংলা) , ফাতেমা পারভিন (ইসলামের ইতিহাস)। এদের মধ্যে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ১৯৯৭ সালে ভুগোল বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে যোগদান এবং ২০০১ সালে সকল শিক্ষকের সাথে তার এমপিও হয়। ২০০৪ সালে বিএনপি জামাত ক্ষমতায় এলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দ্বায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর পর ২০০৪ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক কাম্য যোগ্যতা না থাকলেও উপাধ্যক্ষ হিসেবে নিজের নিয়োগ নেন এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দ্বায়িত্ব পালন করেন।  অবৈধভাবে তিনি উপাধ্যক্ষ নিয়োগ নিলেও বেতন ভোগ করতে থাকেন ভুগোল বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে। এছাড়া রেজুলেশনে কলেজটির নাম পরিবর্তন করে চন্দ্রা কলেজ নামকরনের কারণে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন। পরবর্তীতে তদন্তকালে অর্থ আত্মসাৎ সহ সকল অনিয়ম বের হয়ে আসলে ২/১১/০৯ তারিখে ৯৬ নং রেজুলেশনের মাধ্যমে জাহাঙ্গীর আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করে অবৈধভাবে উত্তলিত টাকা সরকারি কোষাগাওে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয় এবং ভুগোল বিষয়ের প্রভাষকের পদ শুন্য ঘোষণা করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।  তার পর থেকে তিনি প্রায় নয় বছর ধরে কলেজে যোগাযোগ করেন নাই।  এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্তও তিনি মোকাবিলা করেননি। এছাড়া কিশোর কুমারসহ অন্য প্রভাষকদের নানা অনিয়মের বিষয়ে  জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে কলেজ পরিচালনা পর্ষদের ১৩/০৮/২০১১ তারিখের ১১৪ নং রেজুলেশনের মাধ্যমে তাদেরকে কলেজের সকল কর্মকান্ড থেকে অব্যহতি দেয়া হয় এবং তারা বর্তমানেও কর্মরত নাই।

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এসএম মোবারক হোসেন নিউজনাউকে জানান , মোঃ জাহাঙ্গীর আলম , নাজমা আক্তার, কিশোর কুমার ,হাসিনা আক্তার জাহান এবং ফাতেমা পারভিন  এরাতো প্রায় ৯/১০ বছর ধরে কলেজে কর্মরত নাই। তাদের জাতীয়করণ হবে কিভাবে? তাছাড়া  তাদের নামের তালিকাও পাঠানো হয়নি কলেজ থেকে। আমাদের কলেজ থেকে ৭৪ জনের নামের তালিকা পাঠানো হয়েছে । এর মধ্যে কৃষি বিষয়ের প্রভাষক ইব্রাহিম আলী সাহেব মারা গেছেন। এর বাইরে কারো জাতীয়করণ করার সুযোগ নাই।

 

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.