Banner Before Header

পোখারার দর্শনীয় স্থানগুলো

না দেখলে এ জীবনটাই মিস!

পোখারা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পর্যটন আকর্ষণগুলোর একটি। পর্যটকদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় জীবনে একবার হলেও পোখারা দর্শনের ইচ্ছা থাকে। ঘুম থেকে জেগে জানালার পর্দা সরালেই অন্যপূর্ণা রেঞ্জের বরফ ঢাকা শ্বেত শরীরে সূর্যের আলোয় সোনালি আভা দেখে আপনার দু’চোখ বিস্ময়ে স্থির হয়ে যাবে। চলুন জেনে নেয়া যাক পোখারায় গিয়ে কী কী দেখবেন-

ফেওয়া তাল: বাংলায় এর অর্থ হলো ফেওয়া লেক। নেপালের দ্বিতীয় বৃহত্তম লেক এটি। চারদিকে উঁচু পাহাড়, মাঝখানে লেকটির অবস্থান। সূর্যের আলোর তারতম্যের কারণে লেকের পানির রং বদলে যায়। এ দৃশ্য দেখতে বেশ ভালো লাগে। ইচ্ছা করলে নির্দিষ্ট ভাড়ায় সারা দিন ধরে লেকে বোটিং করতে পারেন। দেখবেন আপনার পাশাপাশি লেকের পানির উপর উড়ছে নাম না জানা অনেক পাখি। লেকটি পাখিদের অভয়ারণ্য। চাইলে ফিশিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে পাখি শিকার করতে পারবেন না।

বারাহি টেম্পল: ফেওয়া লেকের প্রায় মাঝখানে ছোট্ট দ্বীপ। এখানেই বারাহি টেম্পল। দুই তলা এই মন্দিরে হিন্দু এবং বৌদ্ধ উভয় ধর্মের অনুসারীগণ পূজা প্রার্থনা করেন। ফেওয়া তালে ঘুরতে যাওয়া প্রায় শতভাগ পর্যটক এই মন্দির দর্শন করেন। মন্দিরে যাওয়ার জন্য নৌকা ভাড়া করতে হবে। এ জন্য জনপ্রতি দশ রুপি খরচ করলেই হবে।

মাউন্ট ভিউ: পোখারা ভ্যালির প্রায় সব জায়গা থেকেই অন্যপূর্ণা পর্বত দেখতে পাওয়া যায়। এক দৃষ্টিতেই দেখে নেয়া যায় সম্মোহিত হয়ে যাওয়ার মতো তার সৌন্দর্য। একটু সময় নিয়ে শহরের আশপাশে হেঁটে বেড়াতে পারলে চোখে পড়বে অন্যপূর্ণা এক, দুই, তিন ও চার নাম্বার শৃঙ্গ। আপনি অবাক হয়ে যাবেন, যখন দেখবেন দূরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে ৮,১৬৭ মিটার উচ্চতার মাউন্ট ধবলগিরি এবং ৮,১৬৩ মিটার উচ্চতার মাউন্ট মানাসলু।

শান্তি সুপ্তা: ১৯৯৯ সালে নির্মাণ হওয়া এই প্যাগোডা বিশ্বব্যাপী ‘বিশ্ব শান্তির মন্দির’ বলে পরিচিত। ফেওয়া তাল থেকে দূর পাহাড়ের চূড়ায় শান্তি সুপ্তার মাথাটুকু শুধু দেখা যায়। সেখানে আরোহণ করলেন তো আপনার সম্মুখে স্পষ্ট দাঁড়ানো দেখতে পাবেন মেছোপুঁচড়ে শৃঙ্গ। ফেওয়া তালে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য উপভোগের সর্বোত্তম জায়গা এটি।

সারাংকোট: পোখারা ঘুরতে যাওয়া পর্যটকদের নিকট সারাংকোট ভীষণ আকর্ষণীয় জায়গা। মূলত এটি একটি পর্বত চূড়া। এখান থেকে অন্যপূর্ণা রেঞ্জের সুন্দরতম শৃঙ্গ মেছোপুঁচড়ে সবচেয়ে নিকটে ও স্পষ্ট দেখা যায়। তার চেয়েও বড় আকর্ষণ হলো, গোল্ডেন সানরাইজ ও সানসেট। সারাংকোটে ১২টি হোটেল রয়েছে। সানরাইজ উপভোগের জন্য বহু পর্যটক অন্ধকার রাতে গিয়ে সেখানে অপেক্ষা করেন। সূর্যের প্রথম আলো ফুটে বেরুনোর সঙ্গে সঙ্গে বরফ রাশির উপর সোনালি রং ছড়িয়ে পড়ে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.