Banner Before Header

ওমানে সফল ব্যবসায়ী ফেনীর শহীদুল ইসলাম

 

বাইজিদ আল- হাসান,  ওমানে নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রতিটি মানুষের জীবনেই স্বপ্ন থাকে, মনের কিছু আকাঙ্ক্ষা ও থাকে। সেই স্বপ্ন বা মনের আকাঙ্ক্ষাকে নিজের মত সুন্দর পরিকল্পনাতে রূপ দেয়াকেই সফলতা বলে। আর সেই স্বপ্ন একেকজনের একেক রকমের হতে পারে, যেমন কেউ হতে চায় ডাক্তার আবার কেউ ইঞ্জিনিয়ার। কেউ হতে চায় শিক্ষক, আবার কেউ কেউ অনেক সম্পদের মালিকও হতে চায়৷ তেমনি দুঃসাহসিক যুবক শহিদুল ইসলাম। ফেনি জেলার দাগনভূঁইয়ায় এই সাহসী যুবকের জন্ম।২০০২ সালে সফল হওয়ার এক স্বপ্ন নিয়ে ওমানে আসেন মাত্র ১৮বছর বয়সে। শহিদুল ইসলামের শুরুটাই হয় বাধার মধ্য দিয়ে, কারন কর্মের জন্য ওমানে এত অল্প বয়সে আসার কারনে ওমান এয়ারপোর্ট থেকে তাকে ইমিগ্রেশন পুলিশ দিচ্ছিলেন না ওমানের ভিসা। এমতাবস্থায় ওমানে তার বাবা মা থাকার কারনে তাদের পাসপোর্ট জমা দিয়ে এয়ারপোর্ট থেকে বের করা হয়। এই ছোট্ট ছেলেটিই একদিন ওমানের সফল বাংলাদেশী হিসেবে নিজেকে প্রতিস্ঠিত করবে তা কেউ চিন্তাও করতে পারেনি। দুইভাই ওমানে পূর্বের থেকেই ব্যবসা করছেন, সেই হিসেবে অল্প বয়সেই ভিসা দিয়ে নিয়ে আসেন ছোটভাই শহিদুল ইসলাম কে। শহিদুল ইসলাম যখন ওমান আসেন, তখন তার বয়স মাত্র ১৮বছর, এতো অল্প বয়সে ওমানে এসে নিজেকে প্রতিস্ঠিত করতে সংগ্রাম করতে হয়েছে অনেক। নিজেকে টিকিয়ে রেখছেন নানা প্রতিকূলতার মাঝেও। ওমানে আসার তিনবছর বছর পর ২০০৫ সালে শুরু করেন নিজের ব্যবসা, মাস্কাটের নিকটবর্তি সহর বারকাহ তে ওপেন করেন একটি বালিশের ফ্যাক্টরি, দূর ভাগ্য বসত ব্যবসা শুরু করার দুই বছর পর ২০০৭ সালে ভয়াবহ সাইক্লোনে নিজের ব্যবসার ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়, প্রায় দেড়কোটী টাকার লোকসান হওয়ার পরেও পুনরায় ব্যবসায় মনোযোগ দেন।

এরপর দীর্ঘ ৮বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে পূর্বের ক্ষতি কাটাতে না কাটাতেই ২০১৬সালে আবার আগুন লেগে সমস্ত ফ্যাক্টরি ধ্বংস হয়ে যায়! এরপরেও থেমে জাননি তিনি, কারন সফল হওয়ার তীব্র আকাংখা প্রতিনিয়ত তাকে তাড়া করছে, তাইতো একের পর এক বাধা বিপত্তি আসার পরেও হতাশ না হয়ে পুনরায় ঘুরে দাড়াবার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। সবশেষে নিজের প্রিয়তমা স্ত্রীর গহনা বিক্রি করে ও বাংলাদেশ থেকে নিজের শেষ সম্বল ছিলো ব্যাংকে ৩০লাখ টাকা, এইসব এনে পূনরায় ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে ওমানের বড়বড় হাইপার মার্কেট গুলোতে তার কোম্পানির বালিশ এবং কম্ফর্টার দেখা যায়, এছাড়াও ছোটবড় অনেক হোলসেল দোকানেও তার পণ্যের বেশ চাহিদা রয়েছে, এছাড়াও তার পণ্যের একটা পরিচিতি রয়েছে পুরো ওমানেই। নিজের দুই মেয়ের নামে “আল সাইমা ও আল সাইফা” ব্র‍্যান্ড প্রতিস্ঠিত করেছেন। তার কোম্পানির উৎপাদিত পণ্যের ভিতর উল্লেখযোগ্য হচ্ছে কুলিং ফাইবার বালিস, যা একটা বালিশের দাম বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৩৫০০ টাকা, এই বালিশ গুলো ওমান ও কাতারের বিভিন্ন ফাইভ স্টার হোটেলে সাপ্লাই দিয়ে থাকেন, এছাড়াও ওমানি মাজলিস তাকিয়া, কম্ফর্টার, সোফা সেট, বেডসিট ও করটন্স ইত্যাদি তৈরি করে বেশ সুনাম অর্জন করেছেন ওমানে। ইতিমধ্যে তিনি ওমানে প্রতিস্ঠিত করেছেন নিজের একটি ফ্যাক্টরি সহ ৪টি শপ, এছাড়াও অতি শিঘ্রই তিনি কাতারেও একটি ফ্যাক্টরি ওপেন করতে যাচ্ছেন। তার কোম্পানিতে বাংলাদেশী শ্রমিক ছাড়াও ওমানি শ্রমিক সহ প্রায় ৪০জন শ্রমিক প্রতিনিয়ত কাজ করছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.