Banner Before Header

প্লিজ রাজীব মীরকে বাঁচান

হাতে সময় মাত্র ২ মাস। দরকার ৯০ লাখ টাকা।

প্রভাষ আমিন : রাজীবের সাথে আমার পরিচয় ফেসবুকে, ২০১৩ সালের পর। তখন তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক। ভার্চুয়াল সম্পর্কটা অ্যাকচুয়াল হতে সময় বেশি লাগেনি। রাজীব এমন একটা ছেলে, যাকে ভালো না বেসে পারা যায় না। উচ্ছ্বল, প্রাণবন্ত। পরিচয়ের পর আমি তাকে ডাকতাম মাস্টর। কয়দিন পর এসে বললো, কবিতা লিখছি। বই করবো। প্রকাশক দেন। অনন্যার মনির ভাইকে বলতেই রাজি হলেন। প্রকাশিত হলো তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘শুধু তোমার জন্য লিখি’। এবার বললেন, প্রকাশনা উৎসবে যেতে হবে। গেলামও। আসলে তার টানটা এমনই উপেক্ষা করা যায় না। এরপর থেকে ডাকি ‘কবি’ বলে। কিভাবে কিভাবে রাজীব জড়িয়ে গেল আমাদের সাথে আষ্ঠেপৃষ্ঠে। তার কোনো অনুষ্ঠান হলেই আসরা যাই। আমাদের সব পারিবারিক অনুষ্ঠানেও সে কমন গেস্ট। কখনো গলা খুলে গায়, কখনো আবুত্তি করে, কখনো চিৎকার করে, স্লোগান দেয়। একদম ফুল অব লাইফ। রাজীব এমনই। সবকিছুতে প্রবল উৎসাহ। সে শিক্ষক, সে কবি। কিন্তু আমি তাকে বলি অ্যাকটিভিস্ট। সকল যৌক্তিক আন্দোলনে সামনের কাতারে। শিক্ষার্থীদের বিপদে-আপদে তো বটেই, চেনা-অচেনা মানুষের বিপদে কাঁধ বাড়িয়ে দেয় রাজীব। এইসব করতে গিয়েই রাজীব ষড়যন্ত্রের শিকার হয়। তখনও তার জন্য লিখেছি। কিন্তু রক্ষা করতে পারিনি। বিয়ের কিছুদিন পরই রাজীব বেকার হয়, এরমধ্যে বাবাও হয় ফুটফুটে এক কন্যা সন্তানের। রাজীবের প্রতি আমার একটা ব্যক্তিগত কৃতজ্ঞতার ঋণ আছে। বিভিন্ন সময়ে তার পাশে থেকেছি। কিন্তু সেই ঋণ কখনো শোধ হবো না। এরমধ্যে টুকটাক কথা হতো ফোনে। কী করবে এসব নিয়ে কথা হতো। কদিন আগে টেলিফোনে কণ্ঠ শুনেই চমকে গেলাম, কী হয়েছে রাজীব? বললো লিভারের জটিল অসুখ হয়েছে। কতটা জটিল তখনও বুঝিনি। দ্রুত ভিসা করিয়ে ইন্ডিয়া গেল। সেখানে ডাক্তাররা বলে দিয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করতে হবে। এর জন্য লাগবে অনেক টাকা। কত টাকা? অন্তত ৯০ লাখ টাকা। শুরু থেকেই তার ছাত্ররা গ্রুপ করে টাকা তুলছিল। আমি জানি রাজীব প্রবল আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন মানুষ। প্রকাশ্যে টাকা চাইলে তার সেই আত্মসম্মানে আঘাত লাগতে পারে। তাই এতদিন প্রকাশ্যে কিছু লিখিনি। তার বোনের সাথে, তার ছাত্রদের সাথে, তার বন্ধুদের বথা বলেছি। টাকা তোলার চেষ্টা চলছে। কিছু টাকা সংগ্রহও করা গেছে। কিন্তু চাহিদা অনেক বেশি, সময় অনেক কম। তাই চাই সবার সর্বাত্মক সহায়তা। দেশে-বিদেশে যারা আছেন সবার সহায়তা চাই। চট্টগ্রাম ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজীবের সকল শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সকল বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, রাজীবের বন্ধু, রাজীবের শত্রু, হৃদয়বান মানুষ সবার প্রতি আবেদন এই সৃষ্টিশীল মানুষকে বাঁচান, সমাজের কাজে লাগবে। আমরা সবাই মিলে চাইলে এই ফুটফুটে বাচ্চাটির বাবার আদর বেঁচে থাকবে।
তার বোনের একাউন্ট নাম্বার থাকলো নিচে। এই স্ট্যাটাসে লাইক বা কমেন্টস দরকার নেই। আর্থিক সহায়তা দরকার। প্লিজ রাজীব মীরকে বাঁচান।
টাকা পাঠাবার জন্যে একাউন্ট নাম্বার।
Sayeda Farjana Yasmin
Dutch Bangla Bank SWIFT Code : DBBLBDDH
A/C # 186-103-00-19648
Dutch Bangla Bank Munshiganj Branch, Munshiganj

লেখক : প্রভাষ আমিন, বার্তা প্রধান, এটিএন নিউজ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.