Banner Before Header

স্পেনে বাংলাদেশি অভিবাসীরাও দেখছেন আশার আলো

সাহাদুল সুহেদ, স্পেন থেকে:

স্পেনে সোশ্যালিস্ট পার্টির সরকার অভিবাসী বান্ধব সরকার হিসেবেই পরিচিত। বিগত সোশ্যালিস্ট পার্টির সরকারের আমলে ২০০৫ সালে অভিবাসীদের সাধারণ ক্ষমা ও সহজ শর্তে বৈধতা প্রদান করা হয়। দেশ পরিচালনায় সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সোশ্যালিস্ট পার্টির সরকারও অভিবাসন নীতি নমনীয় করবে- এমনটি প্রত্যাশা করছেন স্পেনের অভিবাসীরা। ২০১৬ সালের ২৪ জুন স্থানীয় গণমাধ্যমে দেয়া একটি সাক্ষাতকারে সোশ্যালিস্ট পার্টির প্রধান পেদ্রো সানচেজ অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর সানচেজ তার প্রদত্ত প্রত্যয় মোতাবেক কাজ করলে স্পেনে অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে দেশটির বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। আর সেই তালিকায় প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসীও রয়েছেন, যারা বৈধ হওয়ার জন্য দেখছেন আশার আলো।
ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র স্পেন বরাবরই অভিবাসীদের কাছে পছন্দের একটি দেশ। বিশেষ করে সহজ শর্তে বৈধ হওয়ার সুযোগ থাকায় (একসাথে ৩বছর বসবাস করলে প্রয়োজনী কাগজপত্র জমা দিয়ে বৈধ হওয়া যায়) এদেশে অভিবাসীরা ভিড় জমান। অতীতে দেখা গেছে, সোশ্যালিস্ট পার্টি যখন স্পেনের রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকে; তখন অভিবাসীদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি পায়। ২০০৪ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে সোশ্যালিস্ট পার্টির প্রধান খসে ল্্ইুস রদ্রিগেজ জাপাতেরো প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময় অবৈধ অভিবাসীরা সহজ শর্তে স্পেনে বসবাসের বৈধতা পেয়েছেন। বিশেষ করে ২০০৫ সালে সাধারণ ক্ষমা ও সহজ শর্তে বৈধতা পেয়েছেন কয়েক হাজার অভিবাসী। গত ১ জুন স্পেনের পার্লামেন্টে সাংসদদের অনাস্থা ভোটে পরাজিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদ হারানো পপুলার পার্টির প্রধান মারিয়ানো রাখোইর স্থলাবিষিক্ত হোন সোশ্যালিস্ট পার্টির প্রধান পেদ্রো সানচেজ। আর তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দেশটিতে বসবাসকারী অবৈধ অভিবাসীদের মাঝে আনন্দ বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্র সানচেজ ২০১৬ সালের ২৪ জুন স্থানীয় একটি গণমাধ্যমে (ইউরোপা প্রেস) দেয়া সাক্ষাতকারে স্পেনে অবৈধভাবে বসবাস করা অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করার আগ্রহ ও তাদের বৈধভাবে দেশটিতে বসবাস করার ব্যবস্থা গ্রহণের আগ্রহের কথা বলেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী হবার পর সোশ্যালিস্ট পার্টি প্রধান সানচেজ যে অভিবাসীবান্ধব, তার প্রমাণ রাখতে শুরু করেছেন। গত ১৭ জুন ভূমধ্যসাগরে ভাসমান ৩টি জাহাজের ৬২৯ জন অভিবাসী স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ায় প্রবেশ করেছেন, যাদেরকে ইতালির সমুদ্র উপকূল রক্ষাবাহিনী ইতালিতে প্রবেশ করতে দেয়নি। এদেরকে প্রাথমিকভাবে ১ মাসের ‘রেসিডেন্স পারমিট’ প্রদান করা হয়েছে, যা আরো ৪৫ দিন বৃদ্ধি করা হবে এবং পরবর্তীতে স্পেনের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্পেনের শ্রম, অভিবাসী ও সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী মাগদালেনা ভালেরিও।
এদিকে সোশ্যালিষ্ট পার্টি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাবার পর থেকেই স্পেনে অভিবাসীদের প্রবেশের হার বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এ প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী গত ১২ জুন থেকে ১৮ জুন ২৬২৭ জন অভিবাসী স্পেনে প্রবেশ করেছেন, যা এর আগের সপ্তাহ (৫জুন থেকে ১১জুন প্রবেশ করেছেন ৭৩২ জন অভিবাসী) থেকে ২৫৯ শতাংশ বেশি।
অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা স্পেনের রেজিস্ট্রেশনকৃত মানবাধিকার সংগঠন ‘ভালিয়েন্তে বাংলা’ এর সভাপতি ফজলে এলাহি বলেন, সিটি কর্পোরেশন থেকে আমরা যে তথ্য পেয়েছি, তাতে পুরো স্পেনে প্রায় ১০হাজার বাংলাদেশি বৈধভাবে স্পেনে বসবাস করার অনুমোদন পাবার জন্য অপেক্ষায় আছেন। স্পেনের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের সাথে আমরাও দাবি জানিয়েছি এ সরকারের কাছে; যাতে অভিবাসীদের সহজ শর্তে বৈধতা প্রদান করা হয়।


স্পেন থেকে প্রকাশিত একুশে পত্রিকার সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক শাহ জামাল আহমেদ বলেন, বিগত দেড় যুগ স্পেনের সোশ্যালিস্ট পার্টিকে কাছ থেকে দেখেছি। তাদের রাষ্ট্র পরিচালনায় মুনাফাকেন্দ্রিক পুঁজিবাদী উন্নয়নের চেয়ে শ্রমজীবি মানুষের বেতন-ভাতা এবং নানাবিধ সুযোগ সুবিধা বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। চরম অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে কর্মহীন মানুষকে সোস্যাল সিকিউরিটির মাধ্যমে আর্থিক সহযোগিতাও প্রাদান করা হয়েছে। আর তাই এবারো সোশ্যালিস্ট পার্টির সরকারকে ঘিরে সাধারন মানুষ, বিশেষ করে অবৈধ অভিবাসীদের মনে আশার আলো দেখা দিয়েছে। আমরা আশা করছি প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ তার নির্বাহী ক্ষমতাবলে স্পেনে বসবাসরত অবৈধ অভিবাসীদের সাধারণ ক্ষমা কিংবা সহজ শর্ত সাপেক্ষে বৈধতা দেওয়ার ঘোষণা দেবেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.