Banner Before Header

জীবনের গল্প : শরীফ শাদর

শরীফ শাদর : দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করার মাঝে লজ্জা বলতে কিছু নেই, কিন্তু দারিদ্রতার মাঝে নিষ্পেষিত হয়ে মরে যাওয়াটা অপমানের। কষ্ট করলেই, কিংবা চেষ্টা করলেই যে সফলতা আসবে তার ১০০% নিশ্চয়তা নেই ,, কিন্তু যারা কিছু না করেই অন্যের উপর ভর করে সফলতা প্রত্যাশা করেন, কিংবা নিজের ব্যর্থতার জন্য প্রতিনিয়ত পরিবারের সদস্যদের, সমাজের মানুষের, কিংবা দেশের সরকারের দোষারুপ করেন তাদের মতো বোকা মানুষ কোনোদিনও যে সফল হতে পারবেন না তা ১০০ নিশ্চিত। জীবনে সফলতার জন্য পরিশ্রম, মেধা, আর সময় উপযুগি পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই।
জীবনে দীর্গদিন বেঁচে থাকা কিংবা দীর্গদিন সুখী থাকার নূন্যতম গ্যারান্টি নাই, তাই যখনি জীবনে ভালো সময় পার করছেন বলে মনে করছেন, নিজের উপর অর্পিত সব দায়িত্ব পালনের পর জীবনের বাকি সময়টুকু নিজের জন্য উপভুগ করুন। পরিবার পরিজন নিয়ে ভালো কোনো জায়গায় ঘুরে আসুন, পারলে নিজেকে, ছেলেমেয়ে এবং বৌকে সুন্দর কোনো কিছু কিনে দেন। আর অবশ্যই নিজের প্রিয় যা তা করতে চেষ্টা করুন। ভালো সময়, সুস্থ শরীর আর আর প্রিয়জনের সাথে কাটানো সময়গুলো বদলাতে সময় লাগেনা। পরিশ্রমের সাথে সাথে নিজের জীবনকে উপভুগ করাটাও জীবনেরই একটা অংশ। আমাদের প্রিয় আব্বাকে খুবই মনে পড়ে, সবার জন্য সবকিছু করতে করতে হটাৎ করে মানুষটা একদিন হারিয়ে গেছেন। কোনো এক সময়ে উনি চাইলেই অনেক কিছুই করতে পারতেন, কিন্তু করেননি নিজেকে কিছুই দেন নি। কষ্ট হয় অনেক কষ্ট ! ২০০২ সালে আব্বা যখন হসপিটালে ছিলেন, উনার মেডিক্যাল চেকআপের রিপোর্ট আনতে বাইরে গিয়েছিলাম, হটাৎ করে জানালায় তাকিয়ে দেখি আব্বা মারা যাচ্ছেন। প্রানপনে দৌড়ে গিয়ে আব্বাকে জড়িয়ে ধরবার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু যায়নি। এমন সৎ, মেধাবী, এবং সুঠাম শরীরের একজন মানুষকে এভাবে অকালে মরে যেতে দেখার কোনো ইচ্ছে বা শক্তি সেদিন ছিলোনা।

শরীফ শাদর, মানডাল, নরওয়ে থেকে নিয়মিত ফেসবুকে লেখেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.